কলকাতা- ৪
পুনে-১
সারা স্টেডিয়াম তখন দাড়িয়ে সুর মেলাচ্ছে জাতীয় সঙ্গীতের । মাঠের মধ্যে দুই দলের ফুটবলাররা। কলকাতার মাঠে দর্শকদের মধ্যেও তখনই একটাই কথা জয় কলকাতারই হবে। ভালবাসা, আবেগ ঘেরা এই ফুটবলের থেকে পাওয়া গতিটাকে কাজে লাগাতেই হবে। সেই প্রার্থনা বোধ হয় শুনতে পেয়েছিলেন ভগবানও। ৪-১এ পুনে কে হারিয়ে সেমিফাইনালের প্রথম দল হিসেবে জায়গা করে নিল কলকাতা।
খেলার প্রথম থেকেই কলকাতা জয়ের নেশায় ডুব দিয়েছিল। খেলায় ছিল এতটাই ধার। ৮ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল হিউমের। এই দিন হ্যাট্রিক করলেন হিউম। অসাধারণ টিম গেম ছিল এই ম্যাচে। এই ম্যাচের পর নিশ্চয় উঠে আসবে দ্যুতি আর হিউমের জুটির কথা। অবশ্যই থাকবে আরাতার উইং এ নিজের দক্ষতার কথা। গ্যাভিলনের দারুন পাস। কোচ যে তার দলকে ভাল করে জানেন তা আবারও প্রমানিত। পস্তিগা যে মাঠে নেই। কোন ভাবেই তার অনুপস্থিতের প্রভাব নেই হাবাসের দলে। লেকিচ মাঠে নেমে নিজের গোলটাও তুলে নিলেন। কে কত চেষ্টা করল সেটা হয়ত মাথী আর দেখা হয়না। একটাই লক্ষ্য গোল। যখন কলকাতার অনেকে ধরে নিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়নরা আর বোধ হয় এগোতে পারবে না। সবাই ভুল প্রমান করে তালিকার ৬ নম্বর থেকে সেমিফাইনালের প্রথম দল।
পুনের কোচ বোধহয় ভেবেছিলেন রক্ষণাত্মক খেললে পয়েন্ট আসবে। এই প্ল্যান ই কলকাতাকে এগিয়ে দেয়। দলের ৪ রক্ষন ভাগের ফুটবলাররা উঠে আসছিলেন মাঝ মাঠে। ওভার হেডের বল গুলো কাজে লাগাল কলকাতা। তবে মুতু কাল চেষ্টার শেষ রাখহেন নি। ৩ টে শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এই শট গুলো যদি থিকানা বদলাত তাহলে কলকাতার জন্য কিছুটা খারাপ হতেই পারত। তবে অবশেষে মুতু গোল পান। কিন্তু দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না।
ফুটবল এটাই। শুধু ফুটবল কেন জীবনও। কাল কি হবে কেউ জানেনা। সমালোচনার মধ্যেও দেখিয়ে দিল কলকাতা। বিশ্বাস, একাগ্রতা, ভালবাসা, নিষ্ঠা পারে সব কিছু বদলে দিতে। তাই কলকাতাও জ্বলে উঠল  সঙ্গে হিউমও।